সংসদে কী বলেছিলেন মুনতাকিম?
নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম রোববার জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন- আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা সাত ভাই, তাদের মধ্যে চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদাদের ১৯ জনের মধ্যে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকদের একজন। কিন্তু আমি মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই অনেকে নানা কথা বলেন।

জন্মসাল নিয়ে প্রশ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। সে হিসেবে তার বয়স বর্তমানে প্রায় ৪৫ বছর। তার বাবার নাম মো. আব্দুল কাদের সৈয়দী। এ তথ্য প্রকাশের পর প্রশ্ন ওঠে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা কীভাবে ‘যুদ্ধশহীদ’ হলেন, যখন তিনি নিজে জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীনতার প্রায় এক দশক পরে।

ব্যাখ্যায় যা বললেন মুনতাকিম
বিতর্কের মুখে মঙ্গলবার রাতে তিনি বলেন- আমার বাবা এখনও জীবিত আছেন। আমার দাদা যুদ্ধশহীদ। তিনি আমার বাবার চাচা। আমি বোঝাতে চেয়েছি, আমার বাবা-দাদাদের মধ্যে যুদ্ধে শহীদ আছেন। আক্ষরিক অর্থে আমার বাবা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন—এটা বোঝাতে চাইনি।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টির প্রতিক্রিয়া
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন- “মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো ধরনের মিথ্যাচার কাম্য নয়। তারওপর একজন আইনপ্রণেতার জাতীয় সংসদে এ ধরনের বিকৃত তথ্য উপস্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর মাধ্যমে তারা আবারও প্রমাণ করলেন, তারা কী ধরনের রাজনীতি করেন।”
লেখক আখতারুজ্জামান আজাদের মন্তব্য
লেখক আখতারুজ্জামান আজাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আব্দুল মুনতাকিমের দাদা যদি ১৯৭১ সালে নিহত হয়ে থাকেন, তবে বিভিন্ন পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী তাকে ‘শহীদ’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন—
- বিপ্লবী সূর্য সেন ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের কাছে ‘মাস্টারদা’ ও শহীদ হলেও ব্রিটিশ শাসকদের কাছে ছিলেন ‘সন্ত্রাসী’।
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বাংলাদেশের কাছে জাতীয় বীর হলেও পাকিস্তানের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন ‘বিদ্রোহী’।
- পাকিস্তানি পাইলট রশিদ মিনহাজ পাকিস্তানের কাছে বীর শহীদ হলেও বাংলাদেশের কাছে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্য।
তার মতে, ইতিহাস ও রাজনৈতিক অবস্থানভেদে একই ব্যক্তিকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে।
জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আব্দুল মুনতাকিম নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তবে তার জন্মসাল এবং বাবার জীবিত থাকার তথ্য সামনে আসার পর এ দাবি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের মধ্যে যুদ্ধশহীদ থাকার বিষয়টি তুলে ধরা, সরাসরি নিজের বাবাকে যুদ্ধশহীদ দাবি করা নয়। এ ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তার উপস্থাপন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


