১৭৭২ সালে কোম্পানীর গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এদেশে প্রথম আধুনিক জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯টি জেলায় বিভক্ত করে প্রতি জেলায় একজন করে কালেক্টর নিয়োগ করেন।
সুপ্রিয় দর্শক আসুন জেনেনি ওয়ারেন হেস্টিংস এর বৈচিত্রময় কিছু অধ্যায়।
লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস , যিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসক, ফোর্ট উইলিয়াম (বেঙ্গল) এর প্রেসিডেন্সির প্রথম গভর্নর, বাংলার সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান এবং বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল । ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতে রাজনৈতিক প্রাধান্য স্থাপনের ব্যাপারে তাঁর পূর্বসূরিদের অনুসৃত দ্বিধাগ্রস্ত নীতি পরিহার করেন। তার রাজ্যবিস্তার নীতির প্রতিপক্ষ শক্তিসমূহের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণে তিনি কোন প্রকার শৈথিল্য প্রদর্শন না করে নব নব এলাকা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন । মূলত ভারতে ব্রিটিশ আধিপত্য বিস্তারের কৃতিত্ব তাঁর ।
১৭৩২ সালের ৬ ডিসেম্বর ওয়ারেন হেস্টিংস অক্সফোর্ডসায়ারের চার্চিলে জন্মগ্রহণ করেন । জন্মের কিছু পর ই তিনি তার মাকে হারান । তার বাবার নাম রেভারেন্ড পেনিস্টন হেস্টিংস এবং মায়ের নাম ওয়ারেন হেস্টিংস । তার পরিবারটি ১২৮১ সাল থেকে ১৭১৫ সাল পর্যন্ত সরাসরি ডেলেসফোর্ডের জমিদারের মালিক এবং পৃষ্ঠপোষক ছিল। তারপরে ডেলসফোর্ড এস্টেট বিক্রি করা হয়েছিল, চার্লস প্রথমকে দেওয়া সমর্থনের কারণে যার জন্য পারিবারিক সম্পদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল । তরুণ ওয়ারেনকে তার দাদা লালিত-পালিত করেছিলেন এবং ডেলেসফোর্ডের গ্লুচেস্টারশায়ার গ্রামের সবচেয়ে দরিদ্র শিশুদের সাথে একটি দাতব্য বিদ্যালয়ে শিক্ষিত হন। এক পর্যায়ে তাকে তার একজন চাচা উদ্ধার করেন যিনি তাকে লন্ডনে পাঠান। হেস্টিংস ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে পড়াশোনা করেন, যেখানে তিনি ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী লর্ড শেলবার্ন এবং ডিউক অফ পোর্টল্যান্ড ও কবি উইলিয়াম কাউপারের সাথে মিলিত হন।

তিনি অনেক মেধাবী ছিলেন এবং একজন শীর্ষ পণ্ডিত হিসেবে পারদর্শী হয়ে ওঠেন কিন্তু ষোল বছর বয়সে চলে যেতে বাধ্য হন, যখন তার চাচা মারা যান। তারপর তিনি ১৭৫০ সালে একজন লেখক (কেরানি) হিসাবে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে যোগ দেন এবং ১৭৫০ সালের আগস্টে কলকাতায় পৌঁছায় । সেখানে তিনি অধ্যবসায়ের জন্য খ্যাতি গড়ে তোলেন এবং তার অবসর সময় ভারত সম্পর্কে শেখার এবং উর্দু ও ফার্সি ভাষায় দক্ষতা অর্জনে ব্যয় করেন। ১৭৫২ সালে তার কাজ তাকে পদোন্নতি দিয়েছিল যখন তাকে বাংলার একটি প্রধান ব্যবসায়িক পোস্ট কাসিমবাজারে পাঠানো হয়েছিল, এই সময় কাসিমবাজার ছিল রেশমিবস্ত্র সংগ্রহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তাঁর প্রথম কর্মস্থল হিসেবে হেস্টিংসকে সেখানে পাঠানো হয়। ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা যখন কলকাতা আক্রমণের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তখন হেস্টিংস কাশিমবাজারে ছিলেন। সিরাজ পথিমধ্যে কাশিমবাজার দখল করেন এবং সেখানকার ব্রিটিশদের বন্দি করেন। সিরাজের কলকাতা দখলের পর সেখান থেকে পলায়ন করে যে সকল ব্রিটিশ ফলতায় আশ্রয় নিয়েছিল বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে হেস্টিংস তাদের সাথে মিলিত হন। সেখানে তিনি মেরী নাম্নী এক বিধবাকে বিয়ে করেন। মেরীর প্রাক্তন স্বামী সিরাজের কলকাতা অবরোধের সময় নিহত হয়েছিলেন। মেরীর গর্ভে হেস্টিংসের যে দুটি সন্তান জন্মায় তারা অচিরেই মারা যায়। ১৭৫৮ সাল থেকে হেস্টিংস মুর্শিদাবাদে নতুন নওয়াব মীরজাফর-এর দরবারে কোম্পানির রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।
তিনি ১৭৭২ সালে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বাতিল করেন। বিচার ব্যাবস্থা , দেওয়ানী ও ফৌজদার, আদেশাবলি লিখা, ব্রাহ্মণ ও মুসলিম নিয়মের ইংরেজি অনুবাদ । এই ভাবে ভারতীয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সমস্ত ক্ষমতা কলকাতার গভর্নর জেনারেল ও তার সুপ্রীম কাউন্সিলের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, যা ভারতের কেন্দ্রীভূত প্রশাসন ব্যবস্থার সূচনা করে। এছাড়াও নবজাগরনের তার ভূমিকা ছিল ব্যাপক।
১৭৮১ সালে ওয়ারেন হেস্টিং কলকাতা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।


