“বিপ্লব হচ্ছে এমন একটি কাজ, যা শুরু করতে হয় মনের ভেতর থেকে।”
তার আরো একটি বিখ্যাত উক্তি : যে কোথাও অন্যায় দেখে এবং তার বিরুদ্ধে লড়াই করে না, সে নিজেই একজন অপরাধী ।
চে-কে গুলি করে হত্যা করার জন্য যখন সেনা সদস্য ‘‘ মারিও তেরান ’’ কে বলা হলো, তখন মারিও চে-কে গুলি করতে পারছিলনা কারন তার হাত কাফছিল, চে-র চোখে, চোখ রাখতে পারছিলনা। তখন চে- ঐ সেনা সদস্যকে বলে ছিল : “Shoot, coward, you are only going to kill a man.” যার অর্থ দাঁড়ায়, “গুলি করো কাপুরুষ, তুমি কেবল একজন মানুষকে হত্যা করতে পারবে।”
সুপ্রিয় দর্শক আজ আমরা জানব চে গুয়েভারার জীবন দর্শনের বিভিন্ন দিক এবং কীভাবে তা আজও প্রাসঙ্গিক।
চে গুয়েভারা। নামটি শুনলেই মনে আসে বিপ্লবের প্রতীক, সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। একাধারে চিকিৎসক, বিপ্লবী নেতা, দার্শনিক, এবং আইকন। তার জীবন দর্শন এবং কর্মকাণ্ড কেবল লাতিন আমেরিকাই নয়, সারা বিশ্বের মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস। ১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্ম নেওয়া চে গুয়েভারা ছিলেন একজন চিকিৎসক। তার পুরো নাম এরনেস্তো গেভারা দে লা সের্না। ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি তার অসীম আগ্রহ ছিল। চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ার সময় চে পুরো লাতিন আমেরিকা ভ্রমণ করেন। এই ভ্রমণের সময় তিনি উপলব্ধি করেন, দারিদ্র্য, বৈষম্য, এবং শোষণ কেবল একটি দেশের সমস্যা নয়, এটি গোটা লাতিন আমেরিকারই বাস্তবতা।
বিপ্লবী চেতনায় উত্থান : চে গুয়েভারার জীবনে বড় বাঁক আসে কিউবার বিপ্লবের সময়। ১৯৫৫ সালে মেক্সিকোতে তার দেখা হয় ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে। এই সাক্ষাৎ তাকে বিপ্লবের পথে নিয়ে যায়। কিউবার ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের মূল কারিগর হিসেবে চে গুয়েভারা ছিলেন সামরিক, রাজনৈতিক এবং আদর্শিক সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, “শোষিতদের মুক্তির জন্য সশস্ত্র সংগ্রামই একমাত্র পথ।” ১৯৫৯ সালে কিউবার বিপ্লব সফল হয়, এবং চে গুয়েভারা কিউবার জাতীয় নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
চে গুয়েভারার জীবন দর্শনের মূলমন্ত্র ছিল শোষণহীন সমাজ গঠন। তিনি মনে করতেন, প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই সম্ভব, যখন শ্রমজীবী মানুষ নিজের অধিকার ফিরে পাবে। তার দর্শনে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:


শিক্ষার গুরুত্ব: তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষাই পারে মানুষের মানসিকতা বদলাতে।
বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা: তিনি বলতেন, “যে সমাজ শোষিতদের অধিকার দিতে ব্যর্থ, সেই সমাজকে পাল্টাতেই হবে।”
আন্তর্জাতিকতাবাদ: চে কেবল লাতিন আমেরিকার জন্য নয়, গোটা বিশ্বের শোষিত মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন।
নির্লোভ জীবন: চে নিজের জীবন দিয়ে দেখিয়েছেন কেমন করে একজন নেতা তার স্বার্থ ত্যাগ করে জনমানুষের জন্য কাজ করতে পারেন।


