ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গতরাতের ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরা। গ্যালারিতে হংকংয়ের শতাধিক সমর্থক ঢাকঢোল পিটিয়ে একটানা স্লোগান দিচ্ছিলেন— যেন আগেই জানতেন, জয় তাদেরই হবে। শেষ পর্যন্ত সত্যিই তাই হলো। বদলি ফরোয়ার্ড রাফায়েল মেরকিচের হ্যাটট্রিকে ৪–৩ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হংকং চায়না।
ম্যাচের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক। ১৩ মিনিটে হামজা চৌধুরীর অসাধারণ ফ্রি–কিকে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়। দর্শকেরা যখন প্রথমার্ধ শেষের আনন্দে ডুবে, ঠিক তখনই ধাক্কা—প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড এভারটন কামারগো গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান (১–১)।
দ্বিতীয়ার্ধে হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। জুনিয়র সোহেল রানার ভুল ব্যাকপাস থেকে সুযোগ পেয়ে রাফায়েল মেরকিচ গোল করেন। পরে ৭১ মিনিটে আবারও একই খেলোয়াড় হংকংয়ের তৃতীয় গোলটি করেন, এভারটন কামারগোর দারুণ পাস থেকে। স্কোরলাইন তখন ৩–১, গ্যালারিতে নেমে আসে নীরবতা।
তবে বাংলাদেশের তরুণরা লড়াই থামাননি। ৮৪ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি–কিক থেকে গোলকিপারের ভুলে ফাহামিদুলের ব্যাকভলি ঠেকাতে না পারায় শেখ মোরছালিন বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান কমান (৩–২)। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে শমিত সোমের হেডে সমতা (৩–৩) ফেরে—গ্যালারি তখন উল্লাসে ফেটে পড়েছে।
কিন্তু সুখ বেশিক্ষণ টেকেনি। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে আবারও রক্ষণভাগের ভুলে মেরকিচের হ্যাটট্রিক—আর বাংলাদেশ হেরে যায় ৪–৩ গোলে। হামজা চৌধুরী মাঠেই বসে পড়েন হতাশায়, অন্যরা নীরবে ড্রেসিংরুমে ফেরেন।
এই জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে হংকং দ্বিতীয়বারের মতো টানা এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার পথে প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে বাংলাদেশের পয়েন্ট মাত্র ১—তাদের স্বপ্ন এখানেই শেষ।
প্রথমার্ধে কিছুটা সতর্ক থেকে খেললেও হামজা ছিলেন দলের প্রাণভোমরা। রক্ষণে দৃঢ়তা ও আক্রমণে নেতৃত্ব—সবই একসঙ্গে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু দলীয় রক্ষণভাগের অসংগতি ও অমনোযোগিতাই শেষ পর্যন্ত হার ডেকে আনে।
ম্যাচের পর হতাশায় ভেঙে পড়া বাংলাদেশি ফুটবলারদের মুখে একটাই প্রশ্ন—জয়ের এত কাছে গিয়েও কেন বারবার ব্যর্থতা?
বাংলাদেশের একাদশ
মিতুল মারমা (গোলরক্ষক), তারিক কাজী, শাকিল আহাদ তপু, সাদ উদ্দিন, তাজ উদ্দিন, হামজা চৌধুরী, সোহেল রানা (সিনিয়র), সোহেল রানা (জুনিয়র), রাকিব, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, শেখ মোরছালিন





