যোগাযোগ

  • সম্পাদক ও প্রকাশক: জহিরুল হক | বিভাগীয় প্রধান (অনলাইন): মুহাঃ ইমদাদুল হক

    চারিদিক নিউজের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ১৬৪/১, বিআরবি ক্যাবল বিল্ডিং, (৩য় তলা)
    সবুজবাগ থানা গলি, মধ্যবাসাবো, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪।
    ফোন: ‪+৮৮ ০২ ৪৭২১৪০৪৪‬, ০১৬১১৫৩৬৪৬৪, ০১৭৫৪৭০৭১৮০ | ই-মেইল: info@charidiknews.com, news@charidiknews.com

    বিজ্ঞাপন বিভাগ: ফোন: ‪+৮৮ ০২ ৪৭২১৪০৪৪‬, ০১৬১১৫৩৬৪৬৪, ০১৭৫৪৭০৭১৮০ | ই-মেইল: ads@charidiknews.com

    সার্কুলেশন: ফোন: ০১৭৫৪ ৭০৭ ১৮০ | চারিদিক বাংলার একটি প্রকাশনা

Some Populer Post

  • Home  
  • গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কাচারি ঘর

আহারে কোথায় গেল সেদিন। সময়ের বিবর্তনে সব হারিয়ে  যাচ্ছে।  এই প্রজন্ম তো জানেইনা প্রতিটি বাড়ির সামনে কেন কাচারি ঘর থাকত বা কাচারি ঘর দেখতে কেমন?

কাচারি ঘর! বাংলাদেশে এক সময়ের গ্রাম-বাংলার আভিজাত্যের প্রতীক ছিল ।প্রতিটি বাড়ির সামনে কাচারি ঘর যা এখন আর দেখতে পাওয়া যায়না। এই কাচারি ঘরকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে ডাকা হয় কেউ বলে সদরঘর, বৈঠক খানা বা বাংলা ঘর, বা সর্বদিক পিরচিত কাচারি ঘর। কাচারি ঘর স্থাপিত হয় বাড়ির সামনে ঘাটায় বা রাস্তার পাশে । বাড়ির বাহির আঙিনায়। জায়গির শিক্ষক, মাদ্রসার বা মোক্তবের শিক্ষক কোন কোন ক্ষেত্রে মসজিদের ঈমাম, মোয়াজ্জিনরাও থাকতেন এই কাচারি ঘরে। এছাড়াও বাড়ির অতিথি, মুসাফির, বাড়ির শিক্ষার্থীরাও কাচারি ঘরে জায়গির শিক্ষকদের কাছে সকাল ও রাতে পড়তে যেতেন। 

আহারে কোথায় গেল সেদিন। সময়ের বিবর্তনে সব হারিয়ে  যাচ্ছে।  এই প্রজন্ম তো জানেইনা প্রতিটি বাড়ির সামনে কেন কাচারি ঘর থাকত বা কাচারি ঘর দেখতে কেমন? প্রিয় বন্ধুরা আসুন আজকে আমরা কাচরি ঘর সম্পর্কে জানি। 

কাচারি ঘর হলো বাড়ির সৌন্দর্য, যে বাড়িতে কাচরি ঘর থাকতোনা সেই বাড়ি, আশে-পাশে থাকা  মানুষের কাছে ঐতিজ্য হারাতো। তাছাড়া যে বাড়িতে কাচারি ঘর থাকতো, সে বাড়ীতে  চুরি ডাকাতিও কম হতো। প্রতিটি কাচারিঘর তৈরিতে ছিল নান্দনিকতার ছোঁয়া। কাঠের কারুকাজ করা টিন অথবা শনের ছাউনি থাকত এই কাচারি ঘরে এছাড়াও কিছু কাচারি ঘর পাকা ইটের ও হয়ে থাকতো, পাশে থাকতো শান-বাধানো পুকুর ঘাট। গ্রামে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা, বৈঠক বা গ্রাম্য শালিস বসত এই কাচারি ঘরে। এই কাছারি ঘরে মেহমান বা অতিথিরা এলে থাকতে দেয়া হতো। গৃহস্থদের বাড়িতে কাজ করতে আসা মানুষদের ও বারোমাসি রাখালদের পাটি বিছিয়ে বিছানা করে, থাকতে দেয়া হতো । প্রতি রাতেই পাড়ার সব রাখাল বড় কোনো কাছারি ঘরে মিলিত হয়ে গানের আসর বসতো।গান করত পল্লীগীতি, ভাটিয়ালী, রূপবান, আলোমতি, সাগরভাসা, বেহুলা লখিন্দরের পালা।  বর্ষাকালে হইত পুঁঠি পাঠের আসর।

কাচারি ঘর গুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে

প্রায় প্রতিটি রাতে কাছারি ঘর ওয়ালাবাড়িতে আসত অনাত্মীয়- অচেনা কোনো মুসাফির। ভেতর বাড়ি থেকে শোনা যেত কোনো অচেনা মুসাফিরদের কণ্ঠ : ‘বাড়িতে কেউ আছেন’? কাছে এলে বলত : একটু থাকার জায়গা হবে গো !!! তখন তাদের জায়গা হইত এই কাচারি ঘরে । বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ এই নদীর জন্য বাঙালি হয়ে উটছে অতিথি পরায়ন । যেমন টা আরবরা হয়েছে তাদের দেশের মরুভুমির জন্য । যত রাতেই অতিথি আসুক, বাড়িওয়ালারা না খেয়ে ঘুমাতে দিত না অতিথিদের। মজার ব্যাপার হলো- এ সব অতিথিরা আবার ভোর অন্ধকার থাকতেই উঠে চলে যেত। কিন্তু এখানে মজার ব্যাপার হল বাড়ির ঐসকল অতিথিদের কারনে বাড়ির কোনো কিছু হারাতোনা বা চুরি হতো না। 

কাছারি ঘরের সামনে থাকতো একচালা বারান্দা। কোনোটির সামনে ছিল গাড়িবারান্দা। বারান্দায় সব সময় একটি হেলনা চেয়ার বা বেঞ্চ থাকত। ক্লান্ত পথিকরা এখানে বসে একটু জিড়িয়ে নিত। কখনো কখনো পান-তামাক (হুক্কা) খেয়ে যেত। 

রোজার দিনে পথিকদের ইফতারের জন্য কাছারি ঘরের সামনে বেতের ঢাকিতে (ঝুড়ি) মুড়ি-গুড় আর পানির কলসি রাখা হতো। এখন আর কোনো বাড়িতে কাছারি ঘর নেই। বারোমাসি রাখালের প্রচলন নেই, নেই রাখালি গান। বিলুপ্ত হচ্ছে কাছারি ঘর নামে খ্যাত ‘বাহির বাড়ির বাংলো ঘরটি’। এখন সেখানে জায়গা করে নিয়েছে ড্রয়িং রুম। 

আধুনিকতা ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য বা আভিজাত্য এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে । গ্রাম গঞ্জে হাতে গোনা কয়েকটি কাচারি ঘর দেখা যায় সেই গুলো ও আজ জরাজীর্ণ অবস্থায় । গেস্ট রুম বা ড্রয়িং রুম এর আদি ভার্সন এই কাচারি ঘর হাল আমলে হয়ে উঠেছে ড্রয়িং রুম। আগের দিনে যেমন কাচারি ঘর ছিল অভিজাত্যের বহিঃপ্রকাশ,  এখন যে বাড়িতে যত সাজ-সজ্জা বেশি থাকবে, সে বাড়ির তত বেশি অভিজাত পরিবারের তকমা পাবে। এছাড়াও যে বাড়িতে ড্রয়িংরুমে থাকবে ঝাড়বাতি, সোফাসেট, অ্যাকিউরিয়াম, কারুশিল্প, রুচিশীল কোনো ছবি দিয়ে মনোমুগ্ধকরভাবে সাজানো, সে বাড়ির আভিজাত্যও প্রকাশ পাবে সেই ভাবে। 

পরিশেষে এটাই বলবো বেঁচে থাক আমাদের গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিজ্য, বেঁচে থাক আমাদের কৃষ্টি-কালচার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Us

যোগাযোগ
সম্পাদক ও প্রকাশক: জহিরুল হক | বিভাগীয় প্রধান (অনলাইন): মুহাঃ ইমদাদুল হক

চারিদিক নিউজের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ১৬৪/১, বিআরবি ক্যাবল বিল্ডিং, (৩য় তলা)
সবুজবাগ থানা গলি, মধ্যবাসাবো, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪।
ফোন: ‪+৮৮ ০২ ৪৭২১৪০৪৪‬, ০১৬১১৫৩৬৪৬৪, ০১৭৫৪৭০৭১৮০ | ই-মেইল: info@charidiknews.com, news@charidiknews.com

বিজ্ঞাপন বিভাগ: ফোন: ‪+৮৮ ০২ ৪৭২১৪০৪৪‬, ০১৬১১৫৩৬৪৬৪, ০১৭৫৪৭০৭১৮০ | ই-মেইল: ads@charidiknews.com

সার্কুলেশন: ফোন: ০১৭৫৪ ৭০৭ ১৮০ | চারিদিক বাংলার একটি প্রকাশনা

GPIT @2024. All Rights Reserved.