বাংলাদেশে সম্প্রতি আবারও হাম (Measles) রোগের সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ৫ এপ্রিল (রোববার) থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে হামের জরুরি টিকাদান কর্মসূচি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা না নেয়া এবং সচেতনতার অভাবের কারণে অনেক শিশু ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। হামের সংক্রমণ একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কেন এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হবে।
বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো নিয়মিত টিকা কর্মসূচির আওতায় সম্পূর্ণ টিকা পায়নি, তাদের দ্রুত টিকা নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ করা হয়েছে।
হামের লক্ষণ কী
হাম রোগ সাধারণত ভাইরাসের কারণে হয় এবং এর কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হলো—
- জ্বর
- কাশি
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া
- নাক দিয়ে পানি পড়া
- শরীরে লালচে ফুসকুড়ি
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
কেন হাম বিপজ্জনক
অনেকেই হামকে সাধারণ রোগ মনে করলেও এটি শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে নিউমোনিয়া, অপুষ্টি বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা। তাই নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—
- শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা নিশ্চিত করুন
- টিকাদান কর্মসূচির তারিখ ও স্থান সম্পর্কে খোঁজ নিন
- কোনো গুজবে কান না দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্মিলিতভাবে সবাই সচেতন হলে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সচেতনতা বাড়ানো জরুরি
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র টিকাদান নয়, পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।


