যোগাযোগ

  • সম্পাদক ও প্রকাশক: জহিরুল হক | বিভাগীয় প্রধান (অনলাইন): মুহাঃ ইমদাদুল হক

    চারিদিক নিউজের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ১৬৪/১, বিআরবি ক্যাবল বিল্ডিং, (৩য় তলা)
    সবুজবাগ থানা গলি, মধ্যবাসাবো, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪।
    ফোন: ‪+৮৮ ০২ ৪৭২১৪০৪৪‬, ০১৬১১৫৩৬৪৬৪, ০১৭৫৪৭০৭১৮০ | ই-মেইল: info@charidiknews.com, news@charidiknews.com

    বিজ্ঞাপন বিভাগ: ফোন: ‪+৮৮ ০২ ৪৭২১৪০৪৪‬, ০১৬১১৫৩৬৪৬৪, ০১৭৫৪৭০৭১৮০ | ই-মেইল: ads@charidiknews.com

    সার্কুলেশন: ফোন: ০১৭৫৪ ৭০৭ ১৮০ | চারিদিক বাংলার একটি প্রকাশনা

Some Populer Post

  • Home  
  • নোয়াখালী বিভাগ দাবি: কতটা যুক্তিযুক্ত?
- জাতীয় - বিনোদন - মতামত - সর্বশেষ - সারাদেশ

নোয়াখালী বিভাগ দাবি: কতটা যুক্তিযুক্ত?

ইদানিং সোস্যাল মিডিয়া খুল্লেই দেখা যায় নোয়াখালী বিভাগ চাই’ মিমের হাস্যরসাত্মক ছবি, ভিডিও এর ছড়াছড়ি। এমনকি লাইভ ক্রিকেট খেলা চলছে, সেখানেও নোয়াখালী বিভাগ চাই। গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু বিদেশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটারাও নোয়াখালী বিভাগ চাই’ মিম প্রচার করতে। তাদের মধ্যে কানাডার কন্টেন্ট ক্রিয়েটার বোরজাহ ইয়াংকির করা নোয়াখালী বিভাগ চাই কন্টেন্টটিতো রীতিমত ভাইরাল। […]

নোয়াখালী বিভাগ চাই

ইদানিং সোস্যাল মিডিয়া খুল্লেই দেখা যায় নোয়াখালী বিভাগ চাই’ মিমের হাস্যরসাত্মক ছবি, ভিডিও এর ছড়াছড়ি। এমনকি লাইভ ক্রিকেট খেলা চলছে, সেখানেও নোয়াখালী বিভাগ চাই। গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু বিদেশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটারাও নোয়াখালী বিভাগ চাই’ মিম প্রচার করতে। তাদের মধ্যে কানাডার কন্টেন্ট ক্রিয়েটার বোরজাহ ইয়াংকির করা নোয়াখালী বিভাগ চাই কন্টেন্টটিতো রীতিমত ভাইরাল। নোয়াখালী বিভাগের দাবি নিয়ে ট্রল বা মিমসহ যত হাস্যরসই হোক না কেন আসলে নোয়াখালী বিভাগ দাবি: কতটা যুক্তিযুক্ত?

সুপ্রিয় দর্শক আসুন আজকে আমরা জানবো নোয়াখালী জনপদ কতটা প্রাচীন এবং নোয়াখালী কি সত্যিই একটি বিভাগ হওয়ার যোগ্যতা রাখে। বিস্তারিত ভিডিওতে…

বর্তমান নোয়াখালী জেলা আগে ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালী জেলা নিয়ে একটি বৃহত্তর অঞ্চল ছিল, যা এখনও বৃহত্তর নোয়াখালী নামে পরিচিত।

নোয়াখালী জেলার মর্যাদা পায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক এদেশে জেলা প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় থেকেই। জেলা প্রথা প্রবর্তনের পূর্বে এটি বর্তমান কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের সমন্বয়ে গঠিত সমতট জনপদের অংশ ছিলো। ১৭৭২ সালে কোম্পানীর গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এদেশে প্রথম আধুনিক জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন।

ওয়ারেন হেস্টিংস | চারিদিক-Charidik

তিনি অধুনা বাংলাদেশকে ১৯টি জেলায় বিভক্ত করে প্রতি জেলায় একজন করে কালেক্টর নিয়োগ করেন। এ ১৯টি জেলার একটি ছিল কলিন্দা,  যা মূলতঃ নোয়াখালী অঞ্চল নিয়েই গঠিত হয় । কিন্তু ১৭৭৩ সালে জেলা প্রথা প্রত্যাহার করা হয় এবং প্রদেশ প্রথা প্রবর্তন করে জেলাগুলোকে করা হয় প্রদেশের অধীনস্থ অফিস। ১৭৮৭ সালে পুনরায় জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং এবার বর্তমান বাংলাদেশকে ১৪টি জেলায় ভাগ করা হয়। এ ১৪টি জেলার মধ্যেও ভুলুয়া নামে একটি জেলা ছিল যা নোয়াখালীর প্রাচীন নাম ছিল।  পরবর্তীতে ১৭৯২ সালে ত্রিপুরা (বর্তমান কুমিল্লা) নামে একটি নতুন জেলা সৃষ্টি করে ভুলুয়াকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তৎকালে হাতিয়া উপজেলা ব্যতীত নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ড, লক্ষ্মীপুর, ফেনী এবং চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ নিয়ে ছিল ভুলুয়া পরগনা। ১৮২১ সাল পর্যন্ত ভুলুয়া (বর্তমান নোয়াখালী) ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে, ১৮২১ সালে ভুলুয়া নামে স্বতন্ত্র জেলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলকে ত্রিপুরা জেলা হতে আলাদা করা হয়। ১৮৬৮ সালে ভুলুয়া জেলাকে নোয়াখালী জেলা নামকরণ করা হয়।

তাহলে আমরা বলতেই পারি ২০০ বছরের অধিক প্রাচীন জনপদটিকে বিভাগ হিসাবে দাবী করা অযুক্তিক নয়। এটি যুক্তিক দাবী, সময়ের দাবী। এছাড়াও বাংলাদেশের মানচিত্রে ভৌগলিকগত ভাবে নোয়াখালী একটি গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল। পাশা-পাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা আসলে নোয়াখালীর সাথে সমগ্র বাংলাদেশের স্থলপথ, রেল ও নৌপথের চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে নদী ভাঙ্গনে অনেক জেলা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন বাড়িঘর, শিল্পকলকারখানা স্থাপনসহ নানা কারণে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে বেশির ভাগ জেলার কৃষিজমি দিন দিন কমলেও একমাত্র নোয়াখালী জেলা জেলায় কৃষি জমির পরিমাণ বেড়ে চলেছে। সরকারি কাগজপত্রে নোয়াখালীর আয়তন ৪ হাজার ২০২ বর্গকিলোমিটার বলা হলেও বাস্তবে এর আয়তন আরও বেশি বলে মনে করেন গবেষক ও ভূতত্ত্ববিদেরা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত জরিপও বলছে, নোয়াখালীর আয়তন বাড়ছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত বিবিএসের জেলা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩১ বছরে জেলার আয়তন বেড়েছে ৮৫ বর্গকিলোমিটার। তবে নোয়াখালীর উপকূলে নতুন জেগে ওঠা চরের হিসাব এই জরিপে নেই। সেসব যোগ করলে নোয়াখালীর আয়তন আরও অনেক বাড়বে নিশ্চিতভাবেই।

সরকারের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং, বন বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমুদ্রে জেগে ওঠা নতুন ভূমি নিয়ে নানা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। জানা গেছে, গত ১০০ বছরে নোয়াখালীর উপকূলের নিঝুম দ্বীপ, নলেরচর, কেয়ারিংচর, ভাসানচরসহ অনেক দ্বীপ জেগে উঠেছে। ভাসানচরের দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে জেগেছে ১০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গাঙ্গুরিয়ার চর। এখানে চাষাবাদও শুরু হচ্ছে। হাতিয়ার পশ্চিমে নতুন করে জেগে উঠেছে ঢালচর, চর মোহাম্মদ আলী, চর ইউনুস, চর আউয়াল, মৌলভির চর, তমরুদ্দির চর, জাগলার চর, ইসলামচর, নঙ্গলিয়ার চর, সাহেব আলীর চর ও দক্ষিণে কালামচর।

সম্প্রতি নিঝুম দ্বীপ–সংলগ্ন পালকির চরে গিয়ে দেখা যায়, চরটির দক্ষিণে যত দূর চোখ যায়, তার সবটাই নতুন জেগে ওঠা চর। নিঝুম দ্বীপের আশপাশের মেঘনা ও বঙ্গোপসাগর মোহনায় দূর থেকে চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা বিভিন্ন চর। চরের বাসিন্দাদের মতে, নতুন জেগে ওঠা এসব চরের কারণে নোয়াখালীর আয়তন বেড়েই চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নোয়াখালী দক্ষিণে জেগে ওঠা চরগুলোকে নিয়ে সরকার পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন করা গেলে এখানে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে। আর তাতে প্রাচীন এ জেলা পর্যটন ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে উন্নতির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

নোয়াখালীর রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে, সামাজিক দিক থেকে নোয়াখালী জেলার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। 

দেশের জাতীয় অর্থনীতির শতকরা ৩৫ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে নোয়াখালী জেলার মানুষ। তার ওপর এ জেলার বয়স ২০০ বছরের অধিক। এছাড়া নোয়াখালীর সাত লক্ষাধিক প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ আসে এই জেলার প্রবাসী বাসিন্দাদের মাধ্যমে। একইভাবে এ অঞ্চলের কৃষিও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নতুন ভূমি জেগে ওঠার পর পুরোপুরি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হলে নতুন করে গুরুত্ব পাবে নোয়াখালী। 

নোয়াখালীকে বিভাগে উন্নীত করার দাবি যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী। এটি শুধু স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও বড় অবদান রাখবে। নোয়াখালীর ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় এই দাবি বাস্তবায়ন করা উচিত। তবে এটি করতে হবে সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির মাধ্যমে।

নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায় আপনার মতামত কি? 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Us

যোগাযোগ
সম্পাদক ও প্রকাশক: জহিরুল হক | বিভাগীয় প্রধান (অনলাইন): মুহাঃ ইমদাদুল হক

চারিদিক নিউজের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ১৬৪/১, বিআরবি ক্যাবল বিল্ডিং, (৩য় তলা)
সবুজবাগ থানা গলি, মধ্যবাসাবো, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪।
ফোন: ‪+৮৮ ০২ ৪৭২১৪০৪৪‬, ০১৬১১৫৩৬৪৬৪, ০১৭৫৪৭০৭১৮০ | ই-মেইল: info@charidiknews.com, news@charidiknews.com

বিজ্ঞাপন বিভাগ: ফোন: ‪+৮৮ ০২ ৪৭২১৪০৪৪‬, ০১৬১১৫৩৬৪৬৪, ০১৭৫৪৭০৭১৮০ | ই-মেইল: ads@charidiknews.com

সার্কুলেশন: ফোন: ০১৭৫৪ ৭০৭ ১৮০ | চারিদিক বাংলার একটি প্রকাশনা

GPIT @2024. All Rights Reserved.