বাংলাদেশ ও নেপাল ম্যাচ আবারও স্মরণ করিয়ে দিল একজন ‘উদ্ধারকারী জাহাজ’ থাকলে সাগর পাড়ি দেওয়া যায়, কিন্তু পুরো নৌযান যখন দুর্বল, তখন বন্দর পর্যন্ত পৌঁছানোই কঠিন।

নেপালের বিপক্ষে জেতা ম্যাচ, আবারও জয় হাতে রাখতে ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, বিশেষ করে বাংলাদেশি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর জোড়া গোল, সমর্থকদের মাঝে জয়ের স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ভাগে হামজার চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর বদলে গেল পুরো ম্যাচের চিত্র। শেষ পর্যন্ত নেপাল ২–২ সমতায় ফিরে আসে, আর বাংলাদেশের হাত ছাড়া হয়ে যায় নিশ্চিত জয়। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন “উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা আর কত উদ্ধার করলে বাংলাদেশ জয়ের মুখ দেখবে?” এমন তুলনা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। বারবার একই গল্পের পুনরাবৃত্তি জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে পড়া—এখন বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য একটি অদ্ভুত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একেবারে শেষ মুহুত্যে গিয়ে গোল খাওয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। মিডফিল্ডে হামজা চৌধুরী নেতৃত্ব দেন, বল বিতরণ, দৌড়, ট্যাকল সব জায়গায় তার উপস্থিতি দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু প্রথমার্ধে নেপালের গোলে বাংলাদেশ ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। তার পর দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভূঞার চমৎকার পাসে হামজার এক্রোবেটিক শর্ট অসাধারণ প্রথম গোল। এরপর পিনাল্টি কিক থেকে গোল রক্ষককে বোকা বানানো আরো একটি চমৎকার মনে রাখার মত গোল। বাংলাদেশকে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন হামজা। এবার হয়তো বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে। কিন্তু না আবারও সেই ৯০ মিনিটে স্বপ্ন ভঙ্গ। ২-২ গোলে ম্যাচ ড্র হয়। বাংলাদেশ হারালো আরো একটি জয়।


